সিটি-স্ক্যান

সিটি স্ক্যানের পূর্ণরূপ হলো Computed Tomography (CT Scan)। এটি একটি আধুনিক চিকিৎসা পরীক্ষা, যার মাধ্যমে শরীরের ভেতরের অঙ্গ, হাড়, রক্তনালি ও বিভিন্ন টিস্যুর বিস্তারিত ছবি তোলা হয়।

সিটি স্ক্যানে এক্স-রে রশ্মি ও কম্পিউটার ব্যবহার করে শরীরের ভেতরের বিভিন্ন স্তরের ছবি তৈরি করা হয়। সাধারণ এক্স-রের তুলনায় এতে শরীরের অভ্যন্তরীণ গঠন আরও বিস্তারিতভাবে দেখা যায়।

সিটি স্ক্যান কীভাবে করা হয়?

1. রোগীকে একটি চলমান টেবিলে চিৎ করে শুতে বলা হয়।

2. টেবিলটি গোলাকার সিটি স্ক্যান মেশিনের ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে যায়।

3. মেশিনটি শরীরের বিভিন্ন স্তরের ছবি তোলে। কখনো কয়েক সেকেন্ড শ্বাস বন্ধ রাখতে বলা হয়।

4. প্রয়োজন হলে কনট্রাস্ট ডাই বা বিশেষ তরল দেওয়া হয়, যাতে অঙ্গ ও রক্তনালি আরও স্পষ্ট দেখা যায়।

5. রেডিওলজিস্ট ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট তৈরি করেন।

সাধারণত পরীক্ষা করতে প্রায় ১০–৩০ মিনিট সময় লাগে।

সিটি স্ক্যানের আগে কী কী সতর্কতা নিতে হবে?

  • গর্ভবতী হলে বা গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে চিকিৎসককে জানাতে হবে।
  • কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস বা কোনো ওষুধে অ্যালার্জি থাকলে জানাতে হবে।
  • আগে কনট্রাস্ট ডাইয়ে অ্যালার্জি হয়ে থাকলে অবশ্যই জানাতে হবে।
  • কনট্রাস্টসহ পরীক্ষা হলে কয়েক ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হতে পারে। হাসপাতালের নির্দেশনা মেনে চলুন।
  • ধাতব গয়না খুলে রাখতে হতে পারে।

সিটি স্ক্যান কি নিরাপদ?

সিটি স্ক্যান সাধারণত নিরাপদ ও ব্যথাহীন। তবে এতে এক্স-রে রশ্মি ব্যবহার করা হয়, তাই কিছুটা বিকিরণের সংস্পর্শে আসতে হয়। বারবার অপ্রয়োজনীয় সিটি স্ক্যান করলে ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে।

কনট্রাস্ট ডাই ব্যবহারে বিরল ক্ষেত্রে অ্যালার্জি হতে পারে এবং কিডনির গুরুতর সমস্যায় বিশেষ সতর্কতা দরকার। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করা উচিত।

ছবিতে দেখুন

ভিডিও দেখুন